Archive for April 2014

শিরোনামহীন (কি শিরোনাম দিবো খুঁজে পাই না ! )

সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৪
লিখেছেনঃ Rabiul Islam
একটা সময় ছিলো যখন অমুসলিমরা ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানতো না, শুধু মুসলমানদের আখলাক ও চরিত্র দেখে ইসলাম গ্রহণ করতো। তারা বলতো, এমন আদর্শ চরিত্রের মানুষ যারা তাদের ধর্ম মিথ্যা হতে পারে না। ইসলামের ইতিহাসে ব্যক্তিৃ পর্যায়ে যেমন তেমনি জাতীয় পর্যায়েও এর বহু নযির রয়েছে।
পক্ষান্তরে বর্তমান কালের অবস্থা এই যে, ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য কিতাবের অভাব নেই এবং অভাব নেই যুক্তির মাধ্যমে ইসলামকে তুলে ধরার মানুষের। ইসলামের বিরুদ্ধে অমুসলিম চিন্তানায়কদের উত্থাপিত সকল অভিযোগ খন্ডন করে এত কিছু এখন পর্যন্ত লেখা হয়েছে যে, নতুন করে কিছু আর লেখার নেই। কিন্তু একজন অমুসলিম যখন ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে মুগ্ধ হয় তখন সে অবাক হয়ে যে প্রশ্নটি করে তা হলো, এমন সুন্দর ইসলাম মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নেই কেন? তখন আমাদের বলার মত কোন জবাব থাকে না। যা বলা হয় তাতে প্রশ্নকারীর মন আশ্বস্ত হয় না।


আদীব হুজুর
ব্লগার রাজিব, কেউ তাকে চিনত না, একদিন সে দেখল ইন্ডিয়ান একটা এডঃ "অ্যান আইডিয়া ক্যান চেঞ্জ ইওর লাইফ"। দেখে সে একটা ফন্দি(আইডিয়া) বের করল, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে গালি দিলে অতি শীঘ্রই তার নামডাক ছড়িয়ে পরবে, নাস্তিকরা তাকে লুফে নিবে আর মুসলিমরা তার শত্রু হয়ে যাবে। ফলাফলঃ সে হয়ে যাবে বিরাট "মাশহুর" মানে সেলিব্রেটি। কিন্তু সত্যকারের ফলাফলটা কিন্তু একটু অন্যরকম হয়েছে, আসলেই তার আইডিয়া তার জীবন বদলে দিয়েছে!!!
রেকজন, নাম তার "সিরাজী"!
এত সাধনা করে, এত কষ্ট করে, এত পরিশ্রম করে "সাহিত্য" লিখে, কিন্তু তার সাহিত্যের কেউ দাম দেয় না! কেউ তার সাহিত্য পড়ে না, কদর করেনা! তো কি হয়েছে, যার সাহিত্য পড়ে, যার সাহিত্যের কদর করে তার "সমালোচনা" করলেইতো,নোংরা ভাষায় তাকে আক্রমন করলেইতো ল্যাটা চুকে যায়!! তখন তার সাহিত্য সবাই পড়বে, আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠবে, ফলাফলঃ সে হবে বিরাট মাশহুর মানে সেলিব্রেটি।
কিন্তু একথাটা সে ভাবেনি যে, না পেয়ে আঙ্গুর ফলকে টক বললেই সেটা টক হয়ে যায় না। এবং অন্যের সমালোচনা করলেই নিজের অখাদ্য থুক্কু, "লেখা" কখনো সাহিত্য হয়ে যায় না!
সিরাজী সাহেব ব্লগার রাজিবের ফর্মুলা গ্রহন করেছেন, তাই তার ব্যপারে আমি আর কিছু বলতে চাইনা, সময়ই বলে দেবে, জীবন কিভাবে বদলে যাবে!!!
কোথায় যেন একটা পংতি পড়েছিলামঃ
চামচিকা যদি না চাহে সূর্য্যের মিলন
হবেনা কো মূল্যহীন সুর্য্যের কিরণ !

আমরা এক কাফেলা...

বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০১৪
লিখেছেনঃ Rabiul Islam

মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ (দা.বা.)





চৌদ্দশ বছরের আমরা এক কাফেলা
ইলমের ঈমানের আমরা এক কাফেলা
আমাদের পরিচয় শোনো।

আমরা আলোর ইশারা, নূরের ফোয়ারা
মহাকালের অন্ধকারে রৌশন সিতারা
আমাদের পরিচয় শোনো।

আমরা সত্যের অভিসারী, উম্মার অতন্দ্রপ্রহরী
যুগে যুগে শত দুর্যোগে আমরা পথের দিশারী
আমাদের পরিচয় শোনো।
শোকর আল্লাহর গর্ব নয় কোন।

ইলমের তালিব মোরা, নবীর ওয়ারিস মোরা
জীবন মোদের ধন্য।

আমরা অন্য, আমরা ভিন্ন, আমরা অনন্য
আমরা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ আমাদের জন্য।
জীবন মোদের ধন্য।

হেরার অভিযাত্রী, আমরা সুফফার অনুসারী
পাথেয় কলম-কালি, নির্জন রাতের আহাজারি
ইলমে নবী, আমলে নবী আমাদের সাধনা
বুকে ইশকে নবী, মুখে, ‘ওয়াবিহী হাদ্দাছানা’
ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ, আবু হুরায়রা
নবী-পরশে ধন্য যারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোন পরিচয় অন্য।

মাদানী গুলশানের আমরা পুষ্প, আমরা সৌরভ
সত্যের ডঙ্কা, বাতিলের শঙ্কা, ঈমানের গৌরব
জীর্ণ, শীর্ণ, রিক্ত, নিঃস্ব, তবু আমরা ধনী
ফকীরির মাঝে আমীরি শান শুধু আমরা জানি।
‘আত্বা, সালিম, রাবী‘আ, ছাওরী, যুহরী, যোরারা
সাহাবা-পরশে ধন্য যারা আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোন পরিচয় অন্য।

ক্ষুধা, অনাহার, যন্ত্রণা, নবী জীবনে পাবো সান্ত্বনা
কতদিন বেঁধেছেন পাথর, সয়েছেন কত লাঞ্ছনা
সেই পথে চলা-বন্ধু! আমাদের জীবন-অঙ্গীকার
সে পথের যত যিল্লতি, তা আমাদের অহংকার।
মালিক, শাফেয়ী, আহমদ, হানীফা, এই যে ধারা
উম্মাহর ইমাম যারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোন পরিচয় অন্য।

শিখবো, শেখাবো-‘খায়রুকুম মান তা‘আল্লামা’
মীরাছ-ইলমী খাযানা, লা-দীনার, লা-দিরহামা,
নাই বা চিনুক যামানা, কিছু তাতে যায় আসে না
মাখলূকাতের দু‘আ, ফিরেশতা বিছায় নূরের ডানা
আসকালানী, বাকিল্লানী, মারগিনানী, এই যে ধারা
ইলমের শহীদ যারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোন পরিচয় অন্য।

আমরা ডুবুরী, জ্ঞান-সাগরের মুক্তো-মণি তুলে আনি
দেখো ইতিহাস, তুচ্ছ কত রাজমুকুটের হাতছানি
ইবনে বতুতা, ইবনে খালদুন, ইবনে সিনা, ফারাবী
আমরা হবো যুগের রাজী, গাযালী, কুরতুবি, ত্বাহাবী
ইলমের নীরব সাধনার চির বহমান এই যে ধারা 
আমাদের গর্ব তারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোন পরিচয় অন্য।

আমরা জানি তাইমিয়ার কলম, তরবারী, জুব্বাখানি
বালাকোট-শামেলী, শাহ শহীদ, গাঙ্গুহীর কোরবানী
আমরা জানি রেশমী রুমাল কাহিনী, মাল্টার জিন্দেগানী
কালো কালি আর লাল খুনে মাখামাখি শুধু আমরা জানি
ইলমের রোহবান, জিহাদের ফোরসান এই যে ধারা 
আমাদের গর্ব তারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোন পরিচয় অন্য।

সিলসিলা যুক্ত সাথে আল্লাহর ও রাসূলুল্লাহর 
কোন সরকার করিবে স্বীকার বলো কী দরকার?
জোনায়েদ, জিলানী, আলফেছানী, শাহ দেহলভী
মোহাজিরে মাক্কী, নানুতবী, কান্ধলবী, থানবী
সময়ের সান্ত্বনা যারা, যুগজিজ্ঞাসার জবাব যারা
আমাদের গর্ব তারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোন পরিচয় অন্য।

নবী-হাতে সুফ্ফার সত্তরজনে পিয়েছে দুধের পেয়ালা
আমরা তার ভাগিদার, আমাদের কাফেলা সেই কাফেলা
যুগের দুর্যোগে আজ যারা রাহবার আলী নাদাবীর মত
ইলমের গৌরব যত এখানে এই বাংলায় চিরশায়িত
আল্লাহর রহমতে মেহদীর ঝান্ডায় লড়বে যারা
আমাদের গর্ব তারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোন পরিচয় অন্য।


কিন্তু আজ! কোথা রাখি লাজ, ডুবিলো কি ভাগ্য-তারা!
একদিন আমরা গড়েছি কুরতুবা, খোরাসান, বোখারা
আমরা জ্বেলেছি জ্ঞান-আলো, কত জাতি উজ্জ্বল হলো
শিক্ষক কেন শিষ্য হলো, এ ঘর কেন আঁধার বলো?
ভুলেছি অতীত, কেটেছি শিকড়, আছে কি ভবিষ্যৎ?
কাফেলা হেজাজের তুর্কিস্তানের ধরেছি ভ্রান্তপথ
সালাফের পথে মুক্তি খালাফের, ইমাম মালিকের বাণী
রাসমে আজানে কোথা আজ রূহে বেলালীর সঞ্জীবনী
তাই এসো ভাই শপথ করি, আবার নিশি জাগি
আমরা ধরি সুফ্ফার জিন্দেগী, ইলমের তরে সর্বত্যাগী
সে যুগের মুসলিম বুখারী, এ যুগের মাদানী-কাশ্মীরী
এসো ভাই তাদের পথে চলি, তাদের মত জীবন গড়ি
অতীতের নমুনা একবার যদি ভাই জাগাতে পারি
দেখিবে দুনিয়া করিবে চুম্বন আমাদের পায়ে পড়ি।


একটি নির্বাচনী লিফলেট এবং কিছু কথা...

মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০১৪
লিখেছেনঃ Rabiul Islam
আসসালামু আলাইকুম !

এটি চলমান উপজেলা নির্বাচনের একটি নির্বাচনী লিফলেটের অংশ বিশেষ যেখানে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' লিখা আছে যা কোরআন শরীফের একটি আয়াত। নির্বাচনের সময় এরকম বহু লিফলেট সারা দেশের পথে ঘাটে পড়ে থাকতে দেখা যায় যা অনেক সময় আমরা মনের অজান্তেই পা দিয়ে মাড়িয়ে চলে যাচ্ছি নিজ গন্তব্য স্হলে । সকল অভিযোগ মহান আল্লাহ-পাকের দরবারে।

এ বিষয়ে আমরা কি করতে পারি????

নির্বাচন কালীন সময়ে এ ধরনের পোস্টার বা লিফলেটের মত কাগজ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখলে তা সংরক্ষণ করার প্রয়োজন আছে কি না একটু ভেবে দেখবেন কি??? অন্তত রাস্তায় পরে থাকা পোস্টার বা লিফলেট থেকে "বিসমিল্লাহ" বা "আল্লাহ"
 শব্দগুলো তো আমরা হেফাজত করতে পারি।


মনে হতে পারে আমলটি খুব ছোট। কিন্তু ভাই, না।উল্লেখিত আয়াতটিতে আছে আল্লাহ-পাকের তিনটি মহান নাম যথাঃ আল্লাহ, রহমান , রাহীম । মহান আল্লাহ-পাক আমাদেরকে তার নামের ইজ্জত , সম্মান , মহব্বত করার তৌফিক দান করুন। আমীন । আমীন।



প্রাসংগিক একটি ঘটনাঃ
প্রখ্যাত বুজুর্গ বিশরে হাফী রহঃ জীবনের প্রথম দিকে আল্লাহ-পাকের হুকুম মানা থেকে গাফেল ছিলেন, মদ পানে অভ্যস্ত ছিলেন।একদিন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। লক্ষ করলেন এক টুকরো কাগজ রাস্তায় পড়ে আছে যাতে আল্লাহ-পাকের নাম আছে।তিনি কাগজটি হাতে নিলেন, সংরক্ষণ করলেন।আল্লাহ-পাক এ আমলে এতটাই সন্তুষ্ট হলেন যে সাথে সাথে তার জযব(গায়েবী আকর্ষণ,পরকালের প্রতি মন আকৃষ্ট হওয়া) নছীব হল।মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত পাপাচার থেকে তওবা করলেন এবং পরবতীতে পৃথিবী খ্যাত ওলি আল্লাহ হয়েছেন যাকে মুসলিম উম্মা শত শত বছর যাবত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।

আল্লাহ-পাক আমাদেরকে মহান পূর্বসুরীদের অনুস্মরন করার তৌফিক দান করুণ।
কপি বা শেয়ার করে অপর মুসলমানের ঘুমন্ত অনুভুতিকে জাগ্রত করতে সহায়তা করুন ।


#মূল লেখক এবং উৎসাহদানকারীঃ রবিউল আকরাম ভাই
আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগতম

কিছু লেখা

Copyright © রবিউল ইসলাম - Powered by Blogger